Reading Time: 2 minutes

নিজস্ব প্ল্যাটফর্মের বিপজ্জনক ব্যক্তি ও সংগঠনের তালিকা থেকে ইউক্রেনিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের বিতর্কিত দল ‘আজভ রেজিমেন্ট’ এর বিরুদ্ধে উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শ সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে। তবে, সম্প্রতি জানা গিয়েছে যে নিষেধাজ্ঞায় থাকা বিতর্কিত এই সেনাদলের এর নাম সরিয়ে দিয়েছে ফেসবুকের মালিক কোম্পানি  মেটা। এর মানে দাঁড়ায়, সেনাদলটির সদস্যরা এখন থেকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করলেও মেটা সেগুলোকে ফ্ল্যাগ করে তাদের কনটেন্ট মুছে ফেলবে না।

আর মেটার কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে এই দলের বাইরের ব্যবহারকারীরাও প্ল্যাটফর্মে আজভ রেজিমেন্টের প্রশংসা করতে পারবেন। মেটার এই পদক্ষেপের কথা প্রথম উঠে আসে ইউক্রেনের অনলাইন সংবাদপত্র ‘দ্যা কিইভ ইন্ডিপেন্ডেন্টের’ প্রতিবেদনে। কিইভ ইন্ডিপেন্ডেন্টকে কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেন, ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে অনেক জায়গার পরিস্থিতিই বদলে গেছে। আর এটিও স্পষ্ট যে আজভ রেজিমেন্টকে বিপজ্জনক সংগঠন হিসাবে বিবেচনার ক্ষেত্রে এটি আমাদের কঠোর মানদণ্ড পূরণ করে না।

এই প্রসঙ্গে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট মেটার মন্তব্য জানতে চাইলে তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর আসেনি। ২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রাইমিয়া দখল ও ডনবাসে যুদ্ধ শুরুর পর আজভ রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন ইউক্রেনের রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল কোর’ এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রিনবিলেটস্কি। একই বছরের নভেম্বরে দলটিকে ইউক্রেনের ন্যাশনাল গার্ডে সংযুক্তির আগে তাদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত নিও-নাৎজি মতাদর্শ সমর্থনের অভিযোগ ওঠে।

২০১৫ সালে আজভ রেজিমেন্টের এক মুখপাত্র বলেন, দলের ১০ থেকে ২০ শতাংশ সদস্যই স্ব-স্বীকৃত নাৎসি। ২০২২ সালের শুরুতে সামরিক আগ্রাসন শুরুর দিকে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা দাবি করেন, আজভ রেজিমেন্টে কিছু সংখ্যক চরমপন্থী থাকলেও দলের বিশাল সংখ্যক সদস্যই অরাজনৈতিক। এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মারিওপোলে রাশিয়ার কয়েক মাসব্যাপী অবরোধ চলাকালীন শহরটির প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আজভ রেজিমেন্ট।

এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের শেষে দলটির বেশ কিছু সংখ্যক ব্যাটেলিয়ন যোদ্ধাকে আটক করেছে রাশিয়া। এই নীতিমালা বদল সম্পর্কে আরও তথ্য শেয়ার করতে গিয়ে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টকে মেটা বলেছে, সম্প্রতি তারা আজভ রেজিমেন্টকে উগ্র ডান জাতীয়তাবাদী আজভ আন্দোলনের অন্যান্য দলের চেয়ে আলাদা একটি স্বত্বা হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। বিশেষ করে অ্যান্ড্রি বিলেটস্কিকে ইঙ্গিত করে কোম্পানিটি উল্লেখ করেছে, এখনও বিপজ্জনক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনের তালিকায় তাদের নাম রয়েছে।

তবে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট মাইকেল কোলবর্ন জানান যে এই গ্রুপকে নাৎজিবাদী হিসেবে স্বীকৃত করা যাবে না। তিনি বলেন, এই গ্রুপের সাথে নাৎজিবাদের সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই।

মেটা জানায়, ঘৃণামূলক বক্তব্য, প্রতীক, সহিংসতায় উস্কানিসহ তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড লঙ্ঘন করা যে কোনো কনটেন্ট এখনও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। আর এগুলো খুঁজে পেলেই সরিয়ে ফেলা হবে।

সাবস্ক্রাইব করুন The Penguins Club খবরপত্রিকায়

প্রতি শুক্রবার বিশেষ খবর এবং আলোচনায় অংশগ্রহন করতে আপনার ইমেইল দিন।


Tagged:
About the Author

বিগত প্রযুক্তি বিষয়ক লেখালেখি করছি - বাংলা লেখিকা

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.