Reading Time: 2 minutes

কিছুদিন আগে স্মার্টফোনের চার্জার নিয়ে একটি নতুন আইন পাশ হয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে সকল মোবাইল ফোন এবং ছোট ডিভাইসে ইউএসবি-সি চার্জিং প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে নতুন এই আইনে। কেবল স্মার্টফোন বা মোবাইল ফোন নতুন আইনের অধীনে থাকবে এমনটা নয়। ট্যাবলেট, ডিজিটাল ক্যামেরা, হেডফোন, বহনযোগ্য গেইমিং কনসোল এবং আকারে ছোট অন্যান্য ডিভাইসের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে এ আইন।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ই-বর্জ্য কমানোর লক্ষ্যে সকল ফোনের জন্য একই চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে বছর দশেক ধরে, কিন্তু আইনটি চূড়ান্ত হয়েছে এ বছরের জুন মাসে। প্রযুক্তি শিল্পের সিংহভাগ হার্ডওয়্যার নির্মাতা নিজস্ব ডিভাইসে ইউএসবি-সি চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেবল আইফোন নির্মাতা অ্যাপল। তাই, নতুন আইন পাশ হওয়ার পর সবার চোখ এখন অ্যাপলের দিকে বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সিনেট।

অবশেষে অ্যাপল ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নতুন এ আইন মানতে বাধ্য হয়েছে। আইফোনে ইউএসবি-সি সুবিধা আনার বিষয়টি এবার সরাসরি নিশ্চিত করেছে মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপল। কোম্পানিটির বিপণন প্রধান গ্রেগ জসউইক জানান, অবশ্যই এটি কোম্পানিকে মানিয়ে চলতে হবে। এছাড়া আর কোনো উপায় ও নেই। মার্কিন বাণিজ্য দৈনিক ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদক জোয়ানা স্টার্ন লাইটনিং পোর্ট বদলের বিষয়টি জিজ্ঞেস করেছিলেন তাকে।

জার্নালের টেক লাইভ সম্মেলনে গ্রেগ জসউইক ও অ্যাপলের সফটওয়্যার ভিপি ক্রেগ ফেডেরিঘির সঙ্গে কথা বলার সময় নতুন এই আইন নিয়ে প্রশ্ন করেন জোয়ানা। পরবর্তীতে, এর সম্পূরক প্রশ্ন হিসেবে তিনি জিজ্ঞেস করেন যে কবে নাগাদ সবাই আইফোনে ইউএসবি-সি দেখতে পাবেন। এর জবাবে গ্রেগ বলেন, ইউরোপীয় গ্রাহকদের জন্য সময় নির্ধারণ করেন তারা নিজেরাই। বিভিন্ন মাইক্রো ইউএসবি ও হিয়ারিং এডকে এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি, যেখানে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় সুবিধা পূরণে চাপ দেওয়া হয়েছে অ্যাপলকে।

তিনি আরও বলেন, বিচ্ছিন্ন করা যায় এমন তারযুক্ত বিভিন্ন চার্জিং ব্রিক এরইমধ্যে স্ট্যান্ডারডাইজেশন সংশ্লিষ্ট বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান এনেছে। পাশপাশি, তিনি দাবি করেন যে লাইটনিং থেকে ইউএসবি-সি এ পরিবর্তনে ব্যাপক ইলেকট্রনিক বর্জ্য তৈরি হবে। প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জের প্রতিবেদন বলছে, পুরোপুরি তারবিহীন চার্জিং নির্ভর একটি আইফোনে তাত্ত্বিকভাবে এখনও অনুমোদন দেওয়া সম্ভব। কোম্পানি এর বিকল্প বা আইফোনে ইউএসবি-সি সুবিধার কাছাকাছি বিভিন্ন সম্ভাব্য উপায় বিবেচনা করছে কি না, ওই বিষয়ে ভার্জকে কিছু বলেননি গ্রেগ।

গ্রেগ এর মতামত হিসেবে ভার্জ প্রতিবেদনে লিখেছে, এর বদলে তারা কিছুটা নিরাশাবাদী ও জট পাকানো জবাব পেয়েছেন। যা একটি অনিবার্য সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তা হলো, ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীর আইফোন সংযোগ ও চার্জিংয়ের পোর্ট হবে ইউএসবি-সি। ইইউ এরর বর্তমান আইন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শরতের মধ্যে সকল ফোন ও ট্যাবলেটে ইউএসবি-সি পোর্ট ব্যবহার করতে হবে। ইইউ এর বাইরে কোম্পানির ফোনে কানেক্টর আসবে কি না, ওই বিষয়ে কোনো জবাব দিতে রাজি হননি গ্রেগ।

তবে, তিনি এটি নিশ্চিত করেছেন যে আইনি উপায়ে এই পরিবর্তনে বাধ্য করায় অ্যাপল কোম্পানি মোটেও সন্তুষ্ট নয়। এই আইন মেনে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকারের আগে ঐতিহাসিকভাবে অ্যাপল কীভাবে নিজস্ব উপায়ে চলতে চেয়েছে, এর একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যা দেন গ্রেগ জসউইক। পাশাপাশি, বিভিন্ন আইন প্রণেতার তৈরি হার্ডওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড গ্রহনে বাধ্য হওয়ার পরিবর্তে কোম্পানির প্রকৌশলীদের ওপরই আস্থা বেশি থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব করুন The Penguins Club খবরপত্রিকায়

প্রতি শুক্রবার বিশেষ খবর এবং আলোচনায় অংশগ্রহন করতে আপনার ইমেইল দিন।


Tagged:
About the Author

বিগত প্রযুক্তি বিষয়ক লেখালেখি করছি - বাংলা লেখিকা

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.